১০ই মুহাররম: রাসুল সাঃও কি পালন করতেন?

মূর্তিপূজক মক্কাবসীরাও খুব মর্যাদার সাথে এ দিনটিকে পালন করতো
মূর্তিপূজক মক্কাবসীরাও খুব মর্যাদার সাথে এ দিনটিকে পালন করতো

মূল,মাওলানা আবু জান্দাল কাসেমী৷

হিজরী বর্ষের প্রথম মাসটি হলো মুহাররম৷ যার অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ ১০মুহাররম তথা আশুরা৷ইতিহাস ও ফজিলতের এক উজ্জ্বলতর দিবস হলো ১০ই মুহাররম৷ মুহাররমের গুরুত্ব ও ফজিলত নতুন কিছু নয় বরং আজকের মতো প্রাক ইসলাম যুগেও আশুরা দিবস ছিলো অত্যান্ত মর্যাদাপূর্ণ৷

মূর্তিপূজক মক্কাবসীরাও খুব মর্যাদার সাথে এ দিনটিকে পালন করতো ৷ তাদের আকিদা ও বিশ্বাসের মধ্যে ছিলো আশুরার মর্যাদার কথা৷তারা মনে করতো, এটি দ্বীনে ইবরাহীমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত৷এদিনে তারা রোজা রাখতো৷কাবার গিলাফ পরিবর্তনের জন্যও তারা বেচে নিয়েছিলো ১০মুহাররমকে৷কারণ এটি পবিত্র দিবস৷

নবুয়্যাতের পূর্বে রাসুল সা কুরাইশদের সব ইবাদত ও আচারের-অনষ্ঠানের অনুসরণ করতেন না৷ বরং যা ভালো এবং প্রকৃত পক্ষেই তা ইবরাহিম আ সুন্নাহ সেগুলোর অনুসরণ করতেন৷ আর অনুত্তম,অসুন্দর ও মন্দ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতেন৷ যেমন হজ্বের মওসুমে রাসুল সা হজ্জ করতেন৷মুহাররম এলে রোজাও রাখতেন৷তবে তিনি এসব বিষয়ে কাউকে নির্দেশ দিতেন না,এবং নিষেধও করতেন না৷এ হলো মক্কায় অবস্থান কালে কিছু চিত্র৷

কিন্তু মদিনা শরীফের চিত্র একটু ভিন্ন৷ হিজরত পরবর্তী কাল৷রাসুল সা সবে মদীনা শরীফে এসেছেন৷তিনি দেখলেন,ঈহুদিরা ১০ই মুহাররম রোজা রাখছে,এবং বিশেষ গুরুত্বের সাথে দিবসটি পালন করছে৷কারণ এদিনে হযরত মুসা ও তার সাথী সঙিরা ফেরাউনের কবল থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন৷অভিশপ্ত ফেরাউন তার বাহিনীসহ সমুদ্রে ডুবে ধ্বংস হয়েছে৷তখন রাসুল সা আশুরার দিনে রোজা রাখার প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দিতে লাগলেন এবং সাহাবায়েকেরাকেও এর প্রতি যত্নশীল হতে নির্দেশ দিলেন৷

(বোখারী১/৪৮১ কোন কোন সূত্রে বর্ণিতে আছে যে, রাসুল সা আশুরার রোজাকে ফরজ ওয়াজিবের মতো গুরুত্ব দিতে লাগলেন৷

বোখারী ও মুসলিমে হযরত সালমা ইবনুল আকওয়া ও রুবাই বিনতে মুয়াওয়াজ বিন আফরা থেকে বর্ণিত,রাসুল সা আশুরার দিন ভোরে আনসারদের এলাকায় এ মর্মে ঘোষক প্রেরণ করেন যে, যারা এখনও পানাহার করেনি তারা যেন রোজার নিয়ত করে ফেলে,আর যারা পানাহার করেছে তারা যেন রোজাদারদের মতো দিনের অবশিষ্টাংশ সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকে৷

পরবর্তীতে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা আর ফরজ হিসেবে বাকি থাকেনি৷রহিত হয়ে যায়৷এবং অন্যান্য নফল রোজার মতো বিবেচ্য হয়৷(বুখারী১/২৬৮,মুসলিম১/৩৬০

এরপরও রাসুল সা রমজানের রোজার পর সবচে বেশি গুরুত্ব দিতেন আশুরার রোজাকে৷(মাআরিফুল হাদিস৪/১৬৮