ঈমান কি? জেনে নিন ঈমানের খুঁটিনাটি

জেনে নিন ঈমানের খুঁটিনাটি
জেনে নিন ঈমানের খুঁটিনাটি

ঈমান মানবজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঈমান এক বিশ্বাসের নাম, যা শুদ্ধ না হলে কোন আমলই সহিহ হবেনা।সারাজীবনের সব কষ্ট বিফলে যাবে।তাই ঈমানকে ভালভাবে জানা, অন্তরে স্থাপন করা ও কাজে পরিণত করা সকল মুসলমানের জন্য অবশ্যকীয়।

নিম্নে স্বল্প পরিসরে ঈমানের পরিচয় ও খুটিনাটি নিয়ে আলোচনা করা হল

ঈমানঃ– আরবী ভাষায় ঈমান শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। ব্যবহারের ভিন্নতার প্রেক্ষিত এর অর্থের মধ্যে কিছুটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। ক্ষেত্র বিশেষে তা বিশ্বাস করা, স্বীকার করা, ভরসা করা এবং নিরাপত্তা প্রদান করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। অপর এক বর্ণনা মতে, ঈমানের আভিধানিক অর্থ অন্তরে বিশ্বাস করা।

ঈমানের শরয়ী অর্থঃ মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের মতে, তিনটি বিষয়ের সমষ্টিকে ঈমান বলা হয়। এ তিনটি বিষয় হলো- ১. মৌখিক স্বীকৃতি। ২. অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করা। ৩. মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরের দ্বারা যে বিশ্বাস স্থাপন করা হয়, তা কাজে পরিণত করা। অর্থ্যাৎ সে অনুযায়ী আমল করার নাম হলো ঈমান। এই তিনটি একত্রিত হলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মুসলমান বলা হবে।

মুলতঃ রাসুলে আরাবী (সা) আল্লাহর নিকট হতে যে কিতাব প্রাপ্ত হয়েছেন, তাতে এবং তিনি যে পথ প্রদর্শন করেছেন, তাতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাই ঈমান।

ঈমানের গুরুত্বঃ কোরআন ও হাদীসের শরয়ী প্রমাণাদির দ্বারা এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সৎকাজ ও কথা কেবলমাত্র তখনই আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে, যখন উহা বিশুদ্ধ ঈমান ও আকীদা অর্থ্যাৎ সঠিক ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। ঈমান ও আকীদা বিশুদ্ধ না হলে যাবতীয় কাজ-কর্ম আল্লাহর নিকট বাতিল বলে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন, “যে কেউ ঈমান আনতে অস্বীকার করবে, তার জীবনের যাবতীয় কাজ ব্যর্থ ও নিস্ফল হয়ে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা মায়েদা-আয়াত ৫)

আল্লাহ আমাদের ঈমানকে মজবুত করার তাওফিক দান করুন।