কোরআন আপনিও কি অস্বীকার করবেন?

কোরআন আপনিও কি অস্বীকার করবেন?
কোরআন আপনিও কি অস্বীকার করবেন?

একজন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বিজ্ঞ মানুষ; মহিলা বা পুরুষ, সকল স্তরের মানুষের জন্য – ধনী বা গরীব – যার ই এতটুকু বুদ্ধিমত্তা আছে কোরআনের বক্তব্য বুঝার। প্রকৃতিগতভাবেই মানুষের ‘পুণ্য’ অনুধাবনের এবং পুণ্যের বিভিন্ন স্তর (লেভেল) বা মূল্যমান বুঝার শক্তি বিদ্যমান। প্রত্যেক মানুষের কোন একটি উৎকর্ষ গুন যা তার মাঝে বিদ্যমান তা পর্যবেক্ষন করে নিয়ে সেই আলোকে কোরআনে সেই গুনের মূল্যমান তুলনা করতে অগ্রসর হওয়া উচিত।

এরপর সততার এবং সুবিচারের সাথে তার সিদ্ধান্তে আসা উচিত – কোন মানুষের পক্ষে এরূপ ঐশী জ্ঞান এবং লজিক ও যুক্তিবোধ – যা কোরআন এনেছে তা প্রদানের ক্ষমতা আছে কিনা? বাস্তবতার নিরিখে উত্তম চরিত্র তৈরী করার সক্ষমতা কোন মানুষের পক্ষে আছে কিনা যেরূপ চরিত্র তৈরী করার নিখাদ ও উত্তম শিক্ষা কোরআন দেয়? মানবজাতি এমন কোন পারফেক্ট আইন তৈরী করতে পারবে কিনা যার ব্যপ্তি সকল কাল ও অঞ্চলের মানুষের জন্য এবং যে আইন কোন বিশেষ দলের বা গোত্রের জন্য পার্থক্য আনে না; একত্ববাদ এবং ধার্মিকতার স্পিরিট যার প্রতিটি নির্দেশে ও নির্দেশ পালনে অনুপ্রবিস্ট; সর্বপরি বিশুদ্ধতা এবং পরিচ্ছন্নতা যার শেকড়ের খাদ্য স্বরূপ?

এমন ই আশ্চর্জজনক সুবিস্তারিত এবং সর্ব-ব্যপী বিধান একজন অশিক্ষিত মানুষ থেকে কিভাবে আসল? একজন মানুষ যিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বড় হয়েছেন এমন পরিবেশে যেখানকার লোকদের একমাত্র গুন ও বৈশিষ্ট্য ছিল এমনি জীবনধারন করা যা অন্য দল বা গোত্রে হানা দেয়া, আক্রমণ, লুটপাট করা এবং যুদ্ধবিগ্রহের আবর্তে পুরোপুরি জড়ানো ছিল! যারা তাদের কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিত! সন্তানদের ক্ষুধার ভয়ে হত্যা করত। যারা তাদের গোত্র বা পিতার গর্ব করত এবং মা’দের বিয়ে করত। লাম্পট্য ও ব্যভিচার ছিল তাদের গর্ব! তারা জ্ঞানকে তিরস্কার করত, এবং গোত্রের অহংকার দেখাত। তাদের অহংকার এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ এর বহি:প্রকাশ সত্বেও তারা প্রত্যেক শিকারীর শিকারের পাত্র হত এবং যারা ই তাদের দখল নিতে চাইত তারা ই তাদের রাজত্ব দখল নিতে পারত।

একদিন তারা ইয়েমেনী শাসনের অধীনে থাকত তো তারা ইথীয়পিয়ান শাসকদের অধীনে থাকত। কখনো বাইজেন্টাইন শাসকের অধীনে থাকত তো অন্য কোন সময় পারস্যের অধীনে নিগৃহিত হত! এটি ই ছিল আরবের চিত্র – এক অর্থে সকল আরব গোত্রের অবস্থা ইসলাম আগমনের পূর্বে! এমন ই এক পরিবেশে কোরআন নিয়ে আসলেন ইসলামের নবী মুস্তাফা (স)!

ধরেই নেই একজন মানুষই একটি বই নিয়ে আসলেন; বললেন যে, সমগ্র বিশ্বের জন্য এটি এক হেদায়েত। তিনি কি এ সাহস করবেন এমনি তথ্য দেয়ার যা গায়েব বা অদেখা বিষয়কে উপস্থাপন করে – অতীত ও ভবিষ্যতের? শুধু এক বা দুই জায়গায় না – সারা কোরআন জুড়ে – এর পরতে পরতে? গল্পের মাধ্যমে, ভবিষ্যত বাণীর মাধ্যমে, ভবিষ্যতে ঘটবে এরূপ ঘটনার প্রাজ্জ্বল উপস্থাপনের মাধ্যমে (এমন ই বর্ননা যেন বাস্তবে ঘটছে) ! এবং আপনার বিচারই বা কি হবে যখন দেখবেন এর একটি বিষয়ও মিথ্যা প্রমান করা সম্ভব হয়নি?
পরন্তু, যেকোন মানুষ প্রাকৃতিক বিশ্বের একটি অংশ; যে বিশ্ব ক্রমপরিবর্তনশীল। বিশ্ব উন্নততর হচ্ছে ক্রমাগত – দৃষ্টিভঙ্গি ক্রমাগত উৎকর্ষ হচ্ছে – জ্ঞান ও অনুশীলন নিখুত থেকে নিখুত-তর করছে এর প্রতিটি দিক!

একজন মানুষের পক্ষে মানবজীবনের সর্ব দিক সম্পর্কে এমনভাবে কি কথা বলা সম্ভব – এমন জ্ঞান, আইন, প্রগ্গা, তিরস্কার, উপমা, গল্প বিশ্লেষন করা কি সম্ভব – প্রতিটি বিষয় – বড় কি ছোট – কোন একটি অমিল ছাড়া, বর্ণনা বা বক্তব্যের ক্রমাগত উৎকর্ষতা ছাড়া? বিশেষ করে, তিনি যখন বক্তব্য রাখছেন একাধারে ২৩ বছর ধরে – যা এক সময়ের একাধার বক্তব্য নয় – প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বক্তব্য কোন একটি অমিল ছাড়া, বর্ণনা বা বক্তব্যের ক্রমাগত উৎকর্ষতা ছাড়াই প্রদত্ত হল কিভাবে? যখন কোন টপিক বা বিষয় পুন: পুন: বিবৃত হল – যখন পূর্বে বপন-কৃত কোন চারা থেকে পাতা বের হল – বিষয়ের ধারাবাহিকতার (বা নতুন বিষয়ের সাথে পুরাতন কোন বিষয়ের কোন সংঘর্ষ হল না!) কোন ই ছন্দপতন হল না? নি:সন্দেহে এটি অসম্ভব; কারন কোন মানুষই সারা জীবন তার জ্ঞান এবং জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাব অপরিবর্তিত রাখতে সক্ষম নয়।