শরীয়তের প্রধানতম বিধানসমুহ জেনে নিন

শরীয়তের প্রধানতম বিধানসমুহ জেনে নিন
শরীয়তের প্রধানতম বিধানসমুহ জেনে নিন

শরীয়তের বিধান সমুহ প্রধানতঃ দুই ভাগে বিভক্ত

১। আদেশমুলক (যা করণীয় বা ইবাদাত)
২। নিষেধমুলক (যা বর্জনীয় বা গুনাহ)

আদেশমুলক বিধানসমুহ চার প্রকারঃ ১. ফরয। ২.ওয়াজিব। ৩. সুন্নত। ৪. নফল।

নিষেধমুলক বিধানসমুহ তিন প্রকারঃ ১.হারাম। ২.মাকরুহে তাহরীমী। ৩. মাকরুহে তানজীহী।

আদেশ ও নিষেধের মধ্যবর্তী রেখাকে মুবাহ বা জায়েয বলে।

শরীয়তের বিধানসমুহ সর্ব মোট ৮ভাগে বিভক্ত। (বিশ্লেষণ নিম্নে দেওয়া হল)

ফরয দুই প্রকারঃ ১. ফরযে আইন। ২. ফরযে কিফায়াহ।

ফরযে আইনঃ ঐ ফরযকে বলে, যা প্রত্যেক বালেগ, সুস্থ মস্তিষ্ক নর-নারীর জন্য সকলের উপর সমভাবে ফরয। যেমনঃ কালেমা পাঠ করা, পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, রোযা রাখা, আবশ্যক পরিমাণে ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা, সত্য কথা বলা, পর্দা করা ইত্যাদি।

ফরযে কিফায়াহঃ ঐ ফরয কাজকে বলে, যা কিছু লোক পালন করলে সকলেই গুনাহ থেকে বেচে যাবে। তবে যারা পালন করবে, তারা শুধু সওয়াব পাবে। কিন্তু যদি কেউই পালন না করে, সকলেই ফরয তরকের গুনাহগার হবে। যেমনঃ জানাযার নামাজ পড়া, কাফন দাফন করা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা, তাবলীগ করা ইত্যাদি। ফরয কাজ যে ইচ্ছাকৃতভাবে না করবে, দুনিয়াতে তাকে ফাসিক বলা হবে। আখেরাতে সে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হবে। ফরয অস্বীকারকারী “কাফির”।

ওয়াজিবঃ ওয়াজিব ফরযের মতই অবশ্য পালনীয়। ওয়াজিব তরক করলেও ফাসিক ও গুনাহগার হবে এবং আখিরাতে শাস্তির উপযোগী হবে। শুধু পার্থক্য এতটুকু যে, ফরয অস্বীকার করলে কাফির হবে। কিন্তু ওয়াজিব অস্বীকার করলে কাফির হবেনা তবে গুরুতর ফাসিক হবে। যেমনঃ বিতরের নামাজ পড়া, মুখের সকল দিকে এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা, কুরবানী করা, সদকায়ে ফিতর দেয়া, সালামের উত্তর দেয়া ইত্যাদি।

সুন্নাত দুই প্রকারঃ ১. সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ২. সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা।

সুন্নাতে মুয়াক্কাদাঃ– ঐ সকল সুন্নাত কাজ, যা রাসুল (সা) ও তার সাহাবীগন সবসময় করেছেন, বিনা ওজরে কোন সময় ছাড়েননি। যেমনঃ আযান,ইকামাত, খাতনা,নিকাহ ইত্যাদি। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আমলের দিক দিয়ে ওয়াজিবের মত। যে বিনা ওজরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ত্যাগ করে অথবা তরক করার অভ্যাস করে, সে ফাসিক ও গুনাহগার হবে। রাসুল(সা) এর খাস সাফায়েত থেকে বঞ্চিত থাকবে। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ওজর বশতঃ ছুটে গেলে কাযা আদায় করতে হবে। সুন্নাতের কাযা আদায় করলে নফলের সোয়াব পাবে।

সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদাঃ– ইহাকে সুন্নাতে যায়িদাহও বলে। সুন্নাতে যায়িদাহ বা গায়রে মুয়াক্কাদা ঐ সকল সুন্নত কাজকে বলে, যা রাসুল (সা) ও সাহাবাগণ করেছেন, কিন্তু ওজর ছাড়াও কোন কোন সময় ছেড়েছেন। যেমনঃ আছরের পুর্বে চার রাকাত সুন্নাত, ইশরাকের নামাজ ইত্যাদি।

মুস্তাহাবঃ যে কাজ রাসুল (সা) ও সাহাবায়ে কেরাম কোন কোন সময় করেছেন, সবসময় করেননি। করলে অনেক সোয়াব আছে, না করলে গুনাহ ও শাস্তি নাই। এ জাতীয় কাজকে মুস্তাহাব বলে। মুস্তাহাবকে ‘নফল’ ও ‘মানদুব’ ও বলে। যেমন জোহর, মাগরিব ও ইশার শেষ সুন্নাতের পর দু’রাকাত নফল পড়া, উচু জায়গায় বসে অযু করা, ওয়াজ নাসীহাত শোনা ইত্যাদি।

হারামঃ ফরযের বিপরীতে যে কাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনিশ্চিতরুপে ছাড়বার আদেশ করা হয়েছে বা নিষিদ্ধ হয়েছে, তাকে হারাম বলে। বিনা ওযরে হারাম কাজ করলে ফাসিক হবে। অস্বীকার করলে, হালাল কিংবা জায়িয মমে করলে কাফির হবে। যেমনঃ শুকরের গোশত খাওয়া, মদ পান করা, সুদ-ঘুষ খাওয়া ইত্যাদি।

মাকরুহে তাহরীমিঃ ইহা ওয়াজিবের বিপরীতে; অস্বীকার করলে কাফির হতে হবেনা বটে, তবে ফাসিক হবে। বিনা ওজরে মাকরুহে তাহরীমির কাজ করলে ফাসিক ও শাস্তির উপযোগী হবে। যেমনঃ পুরুষের জন্য টাখুন নিচে কাপড় পরিধান করা, নারীর মত পুরুষ ও পুরুষের মত নারীর পোষাক পড়া ইত্যাদি।

মাকরুহে তানযীহিঃ আল্লাহ তা‘লা যে কাজ থেকে অনাবশ্যকভাবে নিবৃত্ত হওয়ার কামনা করেন তাকে মাকরূহে তানযিহী বলা হয়। মাকরূহে তানযিহী থেকে নিবৃত্ত হলে পূণ্য হবে। নিবৃত্ত না হলে গুনাহ হবে না।

মুবাহঃ আল্লাহ মানুষকে কিছু কাজে স্বাধীনতা দিয়েছেন। ইচ্ছে করলে করবে, ইচ্ছে না করলে করবেনা। করলেও পুণ্য নেই, না করলে পাপ নেই। একে মুবাহ বা জায়িয বলে। যেমনঃ মাছ গোস্ত খাওয়া, কৃষিকাজ করা ইত্যাদি। মুবাহ কাজ ভাল নিয়তে করলে সোয়াব হবে। খারাপ নিয়তে করলে গুনাহ হবে। যেমনঃ বাবা-মা বা কোন বুজুর্গ মানুষকে দেখার উদ্দেশ্যে ভ্রমনে বের হলে সোয়াব হবে। সিনেমা দেখার জন্য বের হলে গুনাহ হবে।

আল্লাহ পাক আমাদের হালাল হারাম বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন।