এভাবে ভেবেছেন কি কখনও?

এভাবে ভেবেছেন কি কখনও
এভাবে ভেবেছেন কি কখনও

চিত্র১
আপনি একজন স্বচ্ছল ব্যক্তি৷ মানবিক,ধার্মিকও৷ সুতরাং কোরবানী করছেন৷ এটা বলতেই পারি৷ অবশ্যই সামর্থ্য অনুযায়ী৷ একটি বা দুটি গরু দ্বারা৷হতে পারে খাসি দ্বারাও৷ আপনার বাড়ীর সামনে যে বাড়ীটি আছে৷ হয়তো তারা অস্বচ্চল৷ কোরবানী দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই৷ এমন গরীব হওয়াও তো অসম্ভব নয়,যে দু‘বেলা ভাত-ই জোটে না৷ কোরবানী তো দূর কি বাত!
আপনি যেহেতু একজন হৃদয়বান মানুষ তাই ঈদ উপলক্ষে ঐ বাড়ীতে কিছু পাঠাবেন৷ আর এটাই স্বাভাবিক৷৷ সে চাইতে আসুক বা না আসুক৷ কারণ আপনি জানেন সে গরীব৷ তাকে না দেওয়াটা অমানবিক৷
আবার ঈদের দিন যে ফকিরগুলো আসে তাদেরকেও আপনি রিক্ত হস্তে ফিরান না৷ কারণ আপনি একজন দরদি মানুষ৷

চিত্র২
আপনি রাস্তা ধরে হাঁটছেন৷ব্যস্ত সড়ক৷ পাশ দিয়ে হুশ হুশ করে গাড়ীগুলো চলে যাচ্ছে৷ দানবের মত ট্রাকগুলোর আওয়াজ শুনে কখনো আপনার অন্তর কেঁপে উঠছে৷ এর মধ্যে একটা দৃশ্য দেখে আপনি থমকে গেলেন৷ ডর-ভয় ভুলে এক দৌড়ে রাস্তার মধ্যখানে চলে গেলেন৷ কারণ,একজন অন্ধ ব্যক্তি৷একা একা রাস্তা পেরোচ্ছে৷ যে কোন মুহূর্তে এক্সিডেন্ট হতে পারে৷ তাকে বাঁচানো আপনার মানবিক দায়িত্ব৷ নৈতিক কর্তব্য৷

চিত্র৩
গ্রিষ্মের বিকেল৷ একটু হাওয়া-বাতাস আহরণের জন্য ছাদে উঠেছেন৷ ছাদে আপনার পাশের ফ্ল্যাটের ছোট্ট রাফিকে দেখলেন৷ সে খেলতে খেলতে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম৷ অবশ্যই আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার পড়ার দৃশ্যটি ক্যামেরা বন্দি করবেন না?
বরং যতো দ্রুত সম্ভব রাফিকে বাঁচানোর জন্য আপনি চেষ্টা করবেন৷
কারণ,বিবেক-বুদ্ধি বলতে কোন বস্তু আপনার মধ্যে আছে৷

এভাবে ভেবেছেন কি কখনও
এভাবে ভেবেছেন কি কখনও

এবার অসুন উপরযুক্ত চিত্র-ত্রয়কে আমরা একটু ভিন্ন আঙিকে চিত্রায়িত করি৷
আপনার বাড়ীর সামনে একজন মানুষ থাকেন৷ যিনি অত্যান্ত গরীব৷ অর্থাৎ দ্বীনি বিষয়ে সে নিতান্তই দরিদ্র৷ নামায রোযা হজ্ব যাকাত মোট কথা দ্বীনের কোন বিষয়ে তার নূন্যতম জ্ঞানটুকু নেই৷ এসব বিষয়ে কোন দিন সে আপনাকে জিজ্ঞাসাও করে না৷ এমতাবস্থায় একজন ধর্ম প্রাণ মুসলমান হিসেবে আমার বা আপনার কর্তব্য কী?শুধু কি অপেক্ষায় থাকবো? সে যদি জানতে আসে তবে তাকে জানাবো?
সে জাহান্নামে গেলে আমার কী যায় আসে!
সে পথভ্রষ্ট হলে আমার কী?
এমন চিন্তা করাটা বিবেকবান মানুষের কাজ হবে?
ধর্মপ্রাণ একজন মুমিন হিসেবে কি আমার এতোটুকু কর্তব্য নেই,যে তার কাছে একটু দ্বীন পৌঁছিয়ে দিই৷ তাকে একটু নামাযের দিকে ডাকি৷ তাকে দ্বীনের বিষয়ে কিছু বলি?

অন্ধ ব্যক্তিটির মতো আমাদের পরিচিত অপরিচিত কতো মানুষ বিপথে চলে যাচ্ছে৷ এক্সিডেন্ট করছে জীবনের গতি পথে৷
আমার আপনার কি একটুও দায় নেই? তাদের হাত ধরাটা কি আমাদের নৈতিক,মানবিক বা ঈমানি কর্তব্যে পড়ে না? আমরা কি একটু তাদের হাত ধরে মসজিদের দিকে আনতে পারি না? নাকি এটা আমার দায়িত্বে নেই!

সমাজের যুবক-যুবতি,তরুণ-তরুনীরা দ্বীনের সঠিক বুঝ না থাকার কারণে বৃন্তচ্যূত হচ্ছে৷ মূলের সাথে জুড়ে দেওয়া,সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া বা তাদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করাটা কি আমাদের কর্তব্য নয়? নাকি আমরা দাড়িয়ে দাড়িয়ে তাদের ধ্বংসের দৃশ্যগুলো শুধু ক্যামেরা বন্দী করবো!

সমাজের হতদরিদ্র,অসহায় মিসকিন কি শুধু তারাই যারা অর্থে সম্বলে পিছিয়ে৷ নাকি এদের চেয়েও বড় মিসকিন আমাদের সমাজে আছে৷
যারা দু‘চোখে দেখে না তারাই কি শুধু অন্ধ নাকি আরো বড় অন্ধ এ সমাজে বসবাস করছে এবং এক্সিডেন্ট করছে জীবন প্রবাহে?
অবুঝ শিশুদের শুধু হাত ধরবেন?
দ্বীনি বিষয়ে যারা অবুঝ তাদের কি একটু হাত ধরা উচিত নয়?

সুতরাং আসুন,কোরবানীর গোস্ত যেভাবে গরীব অসহায়দের পৌঁছিয়ে দিচ্ছি৷ তেমনিভাবে যারা দ্বীনি দারিদ্রতায় ভুগছে,তাদের কাছেও একটু দ্বীন পৌঁছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি৷
তারা হয়তো লজ্জায় নয়তো না বুঝায় আমাদোর কাছে আসছে না,কিন্তু আমরা তো তাদের কাছে দ্বীন পৌঁছাতে পারি৷

আল্লাহ আমাদের কবুল করুন৷

লেখকঃ মুফতি মু‘তাসিম বিল্লাহ