যাকাত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসয়ালা পর্ব-১

যাকাত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসয়ালা
যাকাত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসয়ালা

যাকাতের গুরুতপুর্ণ মাসয়ালা সমূহ

মাসয়ালাঃ যাকাত প্রতিটি সম্পদশালী মুসলিম, বালেগ, সুস্থ মস্তিস্ক নর-নারীর উপর ফরয হয়।

মাসয়ালাঃ নেসাবঃ নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্যবসা পণ্যের উপর যাকাত ফরয হয়

মাসয়ালাঃ শুধু স্বর্ণের নেসাবঃ সাড়ে সাত ভরি (তোলা)

মাসয়ালাঃ শুধু রুপার নেসাবঃ সাড়ে বায়ান্ন ভরি (তোলা)

মাসয়ালাঃ স্বর্ণ রুপার একত্রে নেসাবঃ স্বর্ণ ও রুপা উভয় জিনিসই যদি কারো নিকট থাকে এবং কোনটাই নেসাব পরিমাণ না হয়, তবে উভয়ের মুল্য হিসাব করে দেখতে হবে। মুল্য যদি একত্রে রুপার নেসাব পরিমাণ হয়ে যায়, অর্থ্যাৎ সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মুল্যের সমান হয়, তবেই আদায় করতে হবে।

মাসয়ালাঃ নগদ টাকা পয়সার নেসাবঃ বাজার দর হিসেবে অন্তত সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মুল্যের পরিমাণ টাকা এক বছরকাল জমা থাকলে আদায় করতে হবে।

মাসয়ালাঃ ব্যবসা পণ্যের নেসাবঃ কোন জিনিস বিক্রি করার উদ্দেশ্যে রাখা হলেই তাকে ব্যবসা পণ্য মনে করা হবে। সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মুল্যের সমান মুল্যমান সম্পন্ন ব্যবসা পণ্যের যাকাত দিতে হবে। বছরান্তে তখনকার বাজার দর হিসেবে মুল্য ধরতে হবে। ক্রয়মুল্য ধরলে চলবেনা।

মাসয়ালাঃ যাকাত আদায় হওয়ার একটি মৌলিক শর্তঃ স্বর্ণ,রুপা,টাকা-পয়সা বা ব্যবসায় পণ্য নেসাব পরিমাণ হওয়ার পর তৎক্ষনাৎ আদায় করা ফরয হয়না বরং এক বছরকাল নিজের মালিকানাধীন থাকলেই আদায় করা ফরয হয়। অতএব নেসাব পরিমাণ হওয়ার সাথে এক বছর অতিক্রম হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ন শর্ত।

মাসয়ালাঃ বছরের শুরুতে নেসাব পরিমাণ সম্পদ বা টাকা-পয়সা থাকে আর বছরের মধ্যবর্তী সময়ে নেসাবের চেয়েও কমে যায়,আবার বছরের শেষাংশে নেসাব পরিমাণ হয়ে যায়; অথবা বছরের মধ্যবর্তী সময়ে আরও বৃদ্ধি পায় উভয়বস্থাতেই বছরান্তে যে পরিমাণ সম্পদ বা টাকা থাকবে,তার যাকাত হিসাব করে আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে মুলনীতি হল, বছরের শেষে কি পরিমাণ সম্পদ বা টাকা থাকে, তাই ধর্তব্য। মধ্য বছরের হ্রাস-বৃদ্ধি ধর্তব্য নয়।

মাসয়ালাঃ যাকাতের পরিমাণঃ চল্লিশ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করতে হয়। যাকাত ফরয হওয়া সম্পদের পুংখানুপুংখ হিসাব করে সঠিক মুল্য নির্ধারণ করে এর চল্লিশ ভাগের একভাগ অর্থ্যাৎ শতকরা আড়াই টাকা যাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে। সামান্য কম হলেও যাকাত আদায় হবেনা।