যাকাত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসয়ালা পর্ব-২

যাকাত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসয়ালা
যাকাত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসয়ালা

যাকাত এর গুরুত্বপুর্ণ মাসয়ালা সমূহ

মাসয়ালাঃ স্বর্ণ রৌপ্যের ধরণঃ স্বর্ণ-রোপ্য, তা যে অবস্থাতেই থাকুক অর্থ্যাৎ টুকরো আকারে বা অলংকার, বাসনপত্র, ঘড়ি, কলম, চশমার ফ্রেম, কাপড়ের আচলে জড়ানো আকারে এবং তা ব্যবহারে আসুক বা নাই আসুক সর্বাবস্থায় যাকাত আদায় করতে হবে।

মাসয়ালাঃ অনেকে মনে করেন যে, নিত্য ব্যবহার্য্য অলংকারের যাকাত দিতে হবেনা, কেবল তুলে রাখা অলংকারের যাকাত দিতে হবে। এ ধারণা সম্পুর্ণ ভুল।এরুপ যারা করছেন, তাদের বিগত বছরগুলোর যাকাত অনাদায়ী হিসেবে আদায় করতে হবে। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে।

মাসয়ালাঃ ভাড়ার প্রদত্ত জিনিসঃ ভাড়ায় খাটানো বাড়ি ঘর বা অন্যকোন জিনিসের ক্ষেত্রে বিধান হলো এই যে, মুল জিনিসের যাকাত দিতে হবেনা বরং ভাড়ায় উপার্জিত টাকা যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তবে বছরান্তে যাকাত আদায় করতে হবে।

মাসয়ালাঃ কর্জ প্রদত্ত টাকাঃ কাউকে টাকা কর্জ দিয়ে রাখলে সে টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তার যাকাত দিতে হবেনা। যখনই ফিরে পাওয়া যাবে, তখন বিগত বছরগুলোর যাকাত হিসেব করে আদায় করতে হবে। অন্যথায় নয়।

মাসয়ালাঃ প্রভিডেন্ট ফান্ডঃ প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা যখন হাতে আসবে,তখন থেকে বছরান্তে যাকাত দিতে হবে। হাতে আসার পূর্ববর্তী বছর সমুহের যাকাত আদায় করা জরুরি নয়।

মাসয়ালাঃ বিগত বেতনঃ চাকরির বেতন, যা কয়েক বছর যাবত বাকী রয়ে গিয়েছিল, তা উসুল হওয়ার পূর্ববর্তী বছরসমুহের যাকাত আদায় করা ফরয হবেনা।

মাসয়ালাঃ বীমা কোম্পানির জমাকৃত টাকাঃ প্রিমিয়াম হিসেবে যে টাকা বীমা কোম্পানিতে জমা করা হয়েছে, প্রতি বছর হিসেব করে তার যাকাত দিতে হবে। ব্যাংকে জমাকৃত টাকারও অনুরুপভাবে যাকাত দিতে হবে।

মাসয়ালাঃ শরীকানা কারবারঃ শরীকানা কারবারে লাগানো টাকার যাকাত দিতে হবে। শরীকের অন্যান্য লোকজন যদি যাকাত না ও আদায় করে, তবুও নিজের অংশের যাকাত হিসেব করে আদায় করতে হবে।

মাসয়ালাঃ হারাম টাকাঃ সুদ-ঘুষ বা যেকোন হারাম উপায়ে উপার্জিত টাকা যদি আলাদা থাকে, তবে এর যাকাত দিতে হবেনা বরং সাকুল্য টাকাটাই মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া কোন কারণে সম্ভব না হয়, তবে সব টাকাই মালিকের পক্ষ থেকে সদকা করতে হবে।

হারাম টাকা যদি নিজের হালাল টাকার সাথে মিশে যায়, হালাল-হারাম মিলে একাকার হয়ে যায়,তবে সম্পুর্ণ টাকারই যাকাত দিতে হবে। সাথে সাথে হারাম টাকা মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ এর পরেও বহাল থাকবে। কারণ, হারাম টাকা মালিককে ফিরিয়ে দেয়া অথবা তার কাছ থেকে নিদাবী করে মাফ করিয়ে আনা ছাড়া কোন গতিও নেই। তবে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হলে তার পক্ষ থেকে সদকা করে দেওয়াই একমাত্র বিকল্প পথ।

যাকাত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় মাসয়ালা পর্ব-১ এখানে