যে বন্ধু আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

যে বন্ধু আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে
যে বন্ধু আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে

ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আরেফী

সৎ সঙ্গী বাচাই করো৷ ভালো লোকের সাহচার্য লাভ করো৷ ভদ্রজনের সাথে চলো৷ দুনিয়াতে বেশি বেশি নেক্কার, আল্লাহওয়ালা বুজুর্গদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো৷ তাদের সাথে পরিচয় হও তাহলে কিয়ামত দিবসে অধিক উপকৃত হবে। তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও পরিচিতির খাতিরে বিচার দিনের ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে ৷ কথাগুলো বলেছেন হযরত হাসান বসরী রহ ৷

তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো- কিয়ামতের দিন সৎ বন্ধু দ্বারা মানুষ কিভাবে উপকৃত হবে? উত্তরে হাসান বসরী রহ বলেন, জান্নাতীরা জান্নাতে যাওয়ার পর একদিন খোশ-গল্পে মিলিত হবে৷ একপর্যায়ে দুনিয়াতে যারা তাদের বন্ধু ছিলো তাদের ব্যপারে কথা উঠবে৷ তাদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে৷ একজন বলবে,আমার অমুক বন্ধু কী করছে? তার ব্যপারে কী ফয়সালা হয়েছে? সে তো মাদরাসায় আমার পরম-প্রিয় বন্ধু ছিলো, অথবা বলবে, আমরা এক মহল্লায় বাস করতাম/এক মাদরাসা/স্কুলে আমরা পড়েছি৷ এক সাথে আমরা চাকরি করেছি৷ তার কী হয়েছে? তাকে আমি জান্নাতে দেখছি না কেন? তোমরা কী জানো সে কোথায়? তার কী অবস্থা এখন?

তখন বলা হবে, আরে তাকে তো জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে? সে জাহান্নামের অবর্ণনীয় কষ্টে হাবুডুবু খাচ্ছে! বন্ধুর এ কঠিন অবস্থার কথা শুনে জান্নাতী মুমিন বন্ধু বলবে- হে রব,জান্নাতের এ আনন্দ-আহ্লাদ,খুশি-বিনোদন,আরাম-আয়েশ ও সুখ শান্তি সব আমার জন্য অপূর্ণ অতৃপ্ত ও অম্ল হয়ে যাবে যদি না আপনি আমার অমুক বন্ধুকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন৷ প্রিয় প্রভু হে,আপনার করুণা ও দয়ায় তাকে পরিত্রাণ দিন৷

তখন আল্লাহ রব্বুল আলামীনের নির্দেশে জাহান্নামী বন্ধুকে মুক্তি দেওয়া হবে৷ এবং সে তার বন্ধুর অসীলায় জান্নাতের অমীয় সুধা পান করবে৷ অনন্তকালের আড়ম্বর জীবনে প্রবেশ করবে৷

প্রিয় বন্ধু,একটু ভাবুন! ঐ জাহান্নামী ব্যক্তির মুক্তি কি তার নেক আমলের জোড়ে মিলেছে? জান্নাতের অমৃত স্বাদ কি তার আমলের আধিক্যতার কারণে পেয়েছে? কখনই না! তাকে কিন্তু তার তাহাজ্জুদ ও রাত্রী জাগরণের জন্য ক্ষমা করা হয়নি৷ অধিক পরিমাণে রোজা রাখা বা বেশি বেশি নামাযের কারণে জান্নাত দেওয়া হয়নি৷ তার দান খয়রাত বা সদকার জন্যও জান্নাত দেওয়া হয়নি বরং তাকে জান্নাত দেওয়া হয়েছে তার বন্ধুর সুপারিশের কারণে৷ যাকে সে দুনিয়াতে সম্মান দিয়েছে ,ভালবেসেছে৷ সে জান্নাতি বন্ধুর সুপারিশের মাধ্যমে আল্লাহ তাকে জান্নাত দিবেন৷

এ অবস্থা দেখে জাহান্নামীরা আশ্চর্যন্বিত হয়ে বলবে? তাকে মুক্তি দেওয়া হলো কেন? কারণ কি? তার বাপ কি শহীদ? বলা হবে,না৷ -তার ভাই কি শহিদ না৷ -তবে কোন নবী বা ফেরেস্তা কি তার জন্য সুপারিশ করেছে? না৷ বরং তার অমুক বন্ধু তার জন্য সুপারিশ করেছে৷ তখন জাহান্নামীরা বলবে,

فمالنا من شافعين, ولا صديق حميم. فلو ان لنا كرة فنكون من المؤمنين, অর্থঃ পরিণামে(আজ)আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই৷ কোন অন্তরঙ বন্ধুও নেই৷ হায়,যদি আমাদের আরেকবার(পৃথিবীতে) প্রত্যাবর্তনের সুযোগ ঘটতো তাহলে আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম‘৷ (সুরা শু‘আরা,১০০-১০২)

আফসোস!আরেকবার যদি দুনিয়াতে যাওয়ার সুযোগ হতো তবে নেক্কার মুমিন হয়ে যেতাম৷সৎ বন্ধু গ্রহণ করতাম! কিন্তু এখন কি তা সম্ভব?

ভাষান্তর:মুফতি মু‘তাসিম বিল্লাহ