ফেতনা থেকে বাঁচার উপায়

ফেতনা

ফেতনাকে ফেতনা হিসেবে না জানা একটা ফেতনা৷ ফেতনা চিনতে না পারও একটা ফেতনা৷ আবার মুরব্বিরা ফেতনা চিহৃিত করে দেওয়ার পর সেটাকে মানতে না চাওয়াটাও ফেতনা৷ বর্তমান সময়ে ফেতনা আমাদের অষ্টাঙে ছড়িয়ে পড়েছে৷ সামনের দিনগুলোতে সঠিকভাবে দ্বীন চর্চা করাটা যে অনেক কঠিন হয়ে যাবে এতে সন্দেহের অবকাশ দেখিনা৷ বিশেষ করে সাধারণ মুসলমানদের জন্য৷

ফেতনা মোকাবেলায় আমাদের করণীয় কী?এবিষয়ে কি আমরা ইসলামের সোনালী যুগ থেকে কোন দিকনির্দেশনা পেতে পারি?
কেন নয়?
হাদিস গ্রন্থ ও ইতিহাসের কিতাবগুলো অধ্যয়ন করলে এ বিষয়ে অনেক পাথেয় খুঁজে পাওয়া যায়৷ রাসুল সা এর অসংখ্য হাদিস বিদ্যমান রয়েছে এ সংক্রান্ত৷ এবং সাহাবা তাবিয়ীনদের যুগে তো আমাদের জন্য ভরপুর শিক্ষা রয়েছে৷
প্রয়োজন শুধু সেগুলো অধ্যয়ন করা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা৷

ফেতনায়ে ইরতেদাদ(ধর্মান্তর), জাকাত অস্বীকারকারিদের ফেতনা,খারেজীদের ফেতনা এ সকল ফেতনা হযরত সাহাবায়েকেরাম কঠোর হস্তে দমন করেছেন৷ সামান্য শৈতিল্য প্রদর্শন করেননি৷ ফলে আতুড় ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়েছিলো ঈমান নাশক এ ফেতনাগুলো৷

এতোগেলো সাহাবাদের রঃ জমানা৷
এবার আসুন পরবর্তী সময়ের দিকে একটু নজর দিই৷ হযরত আবু হানিফা রহ এর জমানায় মু‘তাজিলা,কদরিয়া ফেরকার উপদ্রব মুসলমানদের জন্য বড় একটা চ্যালেন্জ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো৷ এ ফেতনাবাজরা ভুল ফতোয়া দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছিলো৷ সরলমনা মুলমানদের দ্বিধা সংশয়ে ফেলছিলে৷ তৎকালিন উলাময়ে হক বিশষ করে আবু হানিফা রহ তাদের কঠোরভাবে দমন করেছেন৷
হযরত আহমাদ ইবনে হামবল রহ মুরজিয়া ফেরকার মূলোৎপাটন করেছিলেন৷ যারফলে তাকে অনেক কষ্ট সইতে হয়েছেলো৷
উভয় বুজর্গ কারান্তর হয়েছিলেন শুধু বাতিলকে বাতিল বলার কারণে৷ বাতিলের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে উনারা হকের ঝন্ডা সুউচ্চ রেখেছেন৷ উদারতার নামে কাপুরুষোচিত কৌতুক দেখান নি৷

আমাদের উলামায়ে দেওবন্দও বাতিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন৷ আছেন৷ ইনশাল্লাহ থাকবেন৷
হযরত আঃআজীজ মুহাদ্দীসে দেহলভী রহ এর যুগন্তকারী ফতোয়ার বদৌলতে আল্লাহ আমাদেরকে বৃটিশদের গোলামী থেকে মুক্তি দিয়েছেন৷ এমন অসংখ্য নযীর আছে৷ উলামায়ে হক বাতিলের বিরুদ্ধে সর্বদায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন৷ কাদিয়ানী,বেরেলভী,মওদুদী ফেতনার লাগাম টেনে ধরেছেন৷
أوليك اسلافي. فجئنا بمثلهم

সুতরাং আজকাল যারা উদারতার নামে,ঐক্যের আওয়ায তুলে,দ্বীন রক্ষার ধুম্রজালে বাতিলের সকল কর্মকান্ডকে হকের লেবাস পরানোর ইজারা নিচ্ছেন তাদের ভাবা উচিত ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে,উলামায়ে হক্কদের এড়িয়ে আপনি কিছু মানুষের বাহবা পেতে পারেন,কয়েক সন্ধা রুটি রুজির ব্যবস্থা হতে পারে,তথাকথিত কিছু আলেম আপনাকে উদার লকবে ভূষিত করতে পারে,তবে ইলমী দেওলিয়া হয়েছেন এটাও ভাবতে হবে৷ কালচক্রে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন৷

কুরআন হাদিস অনুযায়ী আমল করতে হবে তবে আমি যেভাবে বুঝবো সেভাবেই যদি আমল করতে যাই তাহলে পদস্খলন অবশ্যম্ভাবী৷ সুতরাং আসলাফ আকাবিরদের দেওয়া ব্যাখা মেনে চলাটাই বেশি নিরাপদ৷
আপনার আমার চে উনারা ভালো বুঝেছেন৷ তাঁরা নিজেদের জীবনই ওয়াকফ করেছিলেন কুরআন হাদীস চর্চার পিছনে৷

আল্লাহ রব্বুল আলামিন দ্বীনের সঠিক সমঝ দান করুন৷
আকাবির,আসলাফদের আযমত অন্তরে বসিয়ে দিন৷

লেখকঃ মুফতি মু‘তাসিম বিল্লাহ