মুহাররমের ১০ তারিখে কিয়ামত সংগঠিত হবে কথাটি কতটুকু সত্য?

মুহাররমের ১০ তারিখে কিয়ামত সংগঠিত হবে কথাটি কতটুকু সত্য?
মুহাররমের ১০ তারিখে কিয়ামত সংগঠিত হবে কথাটি কতটুকু সত্য?

অনেকেই বলে থাকেন মুহাররমের ১০ তারিখ তথা আশুরার দিন শুক্রবার কিয়ামত সংগঠিত হবে, কথাটি কতটুকু গ্রহণযোগ্য? ??

১০ই মুহাররম তথা  আশুরার বহু ফজিলত রয়েছে, যা সহীহ হাদীস সমূহ দ্বারা প্রমানিত ৷ 

তবে দশই মুহাররম তথা আশুরার দিন কিয়ামত হবে কথাটি ঠিক নয় বরং ভুল ধারনামাত্র ৷
আশুরার দিন কিয়ামত সংগঠিত বিষয়টি কোন সহীহ কিংবা হাসান এমনকি যয়ীফ হাদীস দ্বারাও প্রমানিত নয় ৷
এবং কোন হাদীসবিশারদ ও এমন উক্তি করেনি ৷
বরং এর বিপরীতে হাদিসবিশারদ ও জাল হাদীস নির্ণয়কারী মুহাদ্দিসীনরা উক্ত কথাটিকে মিথ্যা, জাল ও বানোয়াট বলেছেন ৷

এ সম্পর্কে শুধুমাত্র একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যা জাল হাদীস নির্ণয়কারী বিশেষজ্ঞদের মতে মাওযু বা বানোয়াট ৷ যা শিয়া ও রাফেজী সম্প্রদায় বানিয়েছেন এবং হাদীস নামে চালিয়ে দিয়েছেন ৷

বর্ণনাটি আমি ইমাম ইবনুল জাওযীর, الموضوعات আলমাওযুআত গ্রন্থ থেকে হুবহু উল্লেখ করছি .
ﻓﻤﻦ اﻷﺣﺎﺩﻳﺚ اﻟﺘﻲ ﻭﺿﻌﻮا: ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺃﺑﻮ اﻟﻔﻀﻞ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻧﺎﺻﺮ ﻣﻦ ﻟﻔﻈﻪ ﻭﻛﺘﺎﺑﻪ ﻣﺮﺗﻴﻦ ﻗﺎﻝ ﺃﻧﺒﺄﻧﺎ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ اﻟﺤﺴﻴﻦ ﺑﻦ ﻗﺮﻳﺶ ﺃﻧﺒﺄﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻃﺎﻟﺐ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﻠﻰاﺑﻦ اﻟﻔﺘﺢ اﻟﻌﺸﺎﺭﻱ، ﻭﻗﺮﺃﺕ ﻋﻠﻰ ﺃﺑﻲ اﻟﻘﺎﺳﻢ اﻟﺤﺮﻳﺮﻱ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻃﺎﻟﺐ اﻟﻌﺸﺎﺭﻱ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ اﻟﺒﺮﺳﺮﻱ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺳﻠﻴﻤﺎﻥ اﻟﻨﺠﺎﺩ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺇﺑﺮاﻫﻴﻢ اﻟﺤﺮﺑﻲ ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺳﺮﻳﺢ ﺑﻦ اﻟﻨﻌﻤﺎﻥ ﺣﺪﺛﻨﺎ اﺑﻦ ﺃﺑﻲ اﻟﺰﻧﺎﺩ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻋﻦ اﻷﻋﺮﺝ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ” ﺇﻥ اﻟﻠﻪ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ اﻓﺘﺮﺽ ﻋﻠﻰ ﺑﻨﻲ ﺇﺳﺮاﺋﻴﻞ ﺻﻮﻡ ﻳﻮﻡ ﻓﻲ اﻟﺴﻨﺔ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﻌﺎﺷﺮ ﻣﻦ اﻟﻤﺤﺮﻡ، ﻓﺼﻮﻣﻮﻩ ﻭﻭﺳﻌﻮا ﻋﻠﻰ ﺃﻫﻠﻴﻜﻢ ﻓﻴﻪ، ﻓﺈﻧﻪ ﻣﻦ ﻭﺳﻊ ﻋﻠﻰ ﺃﻫﻠﻪ ﻣﻦ ﻣﺎﻟﻪ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء ﻭﺳﻊ ﻋﻠﻴﻪ ﺳﺎﺋﺮ ﺳﻨﺘﻪ، ﻓﺼﻮﻣﻮﻩ ﻓﺈﻧﻪ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﺗﺎﺏ اﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﻋﻠﻰ ﺁﺩﻡ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﺭﻓﻊ اﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﺇﺩﺭﻳﺲ ﻣﻜﺎﻧﺎ ﻋﻠﻴﺎ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﻧﺠﻰ ﻓﻴﻪ ﺇﺑﺮاﻫﻴﻢ ﻣﻦ اﻟﻨﺎﺭ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﺃﺧﺮﺝ ﻓﻴﻪ ﻧﻮﺣﺎ ﻣﻦ اﻟﺴﻔﻴﻨﺔ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﺃﻧﺰﻝ اﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ اﻟﺘﻮﺭاﺓ ﻋﻠﻰ ﻣﻮﺳﻰ، ﻭﻓﻴﻪ ﻓﺪﻯ اﻟﻠﻪ ﺇﺳﻤﺎﻋﻴﻞ ﻣﻦ اﻟﺬﺑﺢ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﺃﺧﺮﺝ اﻟﻠﻪ ﻳﻮﺳﻒ ﻣﻦ اﻟﺴﺠﻦ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﺭﺩ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻳﻌﻘﻮﺏ ﺑﺼﺮﻩ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﻛﺸﻒ اﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﻋﻦ ﺃﻳﻮﺏ اﻟﺒﻼء، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﺃﺧﺮﺝ اﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﻳﻮﻧﺲ ﻣﻦ ﺑﻄﻦ اﻟﺤﻮﺕ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﻓﻠﻖ اﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ اﻟﺒﺤﺮ ﻟﺒﻨﻲ ﺇﺳﺮاﺋﻴﻞ، ﻭﻫﻮ اﻟﻴﻮﻡ اﻟﺬﻱ ﻏﻔﺮ اﻟﻠﻪ ﻟﻤﺤﻤﺪ ﺫﻧﺒﻪ ﻣﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﻭﻣﺎ ﺗﺄﺧﺮ، ﻭﻓﻲ ﻫﺬا اﻟﻴﻮﻡ ﻋﺒﺮ ﻣﻮﺳﻰ اﻟﺒﺤﺮ، ﻭﻓﻲ ﻫﺬا اﻟﻴﻮﻡ ﺃﻧﺰﻝ اﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ اﻟﺘﻮﺑﺔ ﻋﻠﻰ ﻗﻮﻡ ﻳﻮﻧﺲ، ﻓﻤﻦ ﺻﺎﻡ ﻫﺬا اﻟﻴﻮﻡ ﻛﺎﻧﺖ ﻟﻪ ﻛﻔﺎﺭﺓ ﺃﺭﺑﻌﻴﻦ ﺳﻨﺔ، ﻭﺃﻭﻝ ﻳﻮﻡ ﺧﻠﻖ اﻟﻠﻪ ﻣﻦ اﻟﺪﻧﻴﺎ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء، ﻭﺃﻭﻝ ﻣﻄﺮ ﻧﺰﻝ ﻣﻦ اﻟﺴﻤﺎء ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء، ﻭﺃﻭﻝ ﺭﺣﻤﺔ ﻧﺰﻟﺖ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء، ﻓﻤﻦ ﺻﺎﻡ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﺻﺎﻡ اﻟﺪﻫﺮ ﻛﻠﻪ، ﻭﻫﻮ ﺻﻮﻡ اﻷﻧﺒﻴﺎء، ﻭﻣﻦ ﺃﺣﻴﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﻋﺎﺷﻮﺭاء ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻣﺜﻞ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺃﻫﻞ اﻟﺴﻤﻮاﺕ اﻟﺴﺒﻊ، ﻭﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﺃﺭﺑﻊ ﺭﻛﻌﺎﺕ ﻳﻘﺮﺃ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺭﻛﻌﺔ اﻟﺤﻤﺪ ﻣﺮﺓ ﻭﺧﻤﺴﻴﻦ ﻣﺮﺓ ﻗﻞ ﻫﻮ اﻟﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﻏﻔﺮ اﻟﻠﻪ ﺧﻤﺴﻴﻦ ﻋﺎﻣﺎ ﻣﺎﺽ ﻭﺧﻤﺴﻴﻦ ﻋﺎﻣﺎ ﻣﺴﺘﻘﺒﻞ ﻭﺑﻨﻰ ﻟﻪ ﻓﻲ اﻟﻤﻸ اﻷﻋﻠﻰ ﺃﻟﻒ ﺃﻟﻒ ﻣﻨﺒﺮ ﻣﻦ ﻧﻮﺭ، ﻭﻣﻦ ﺳﻘﻰ ﺷﺮﺑﺔ ﻣﻦ ﻣﺎء ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻟﻢ ﻳﻌﺺ اﻟﻠﻪ ﻃﺮﻓﺔ ﻋﻴﻦ،.………………ﻭﺧﻠﻖ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء، ﻭﺭﻓﻊ ﻋﻴﺴﻰ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء، ﻭﺃﻋﻄﻰ ﺳﻠﻴﻤﺎﻥ اﻟﻤﻠﻚ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء،

【(ﻭﻳﻮﻡ اﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء】)
( আর কিয়ামত ও হবে আশুরার দিন)

، ﻭﻣﻦ ﻋﺎﺩ ﻣﺮﻳﻀﺎ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﻋﺎﺩ ﻣﺮﺿﻰ ﻭﻟﺪ ﺁﺩﻡ ﻛﻠﻬﻢ “.
প্রিয় পাঠক, এই দীর্ঘ বর্ণণাকে কিছুটা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

এখন আসুন বর্ণনাটি সম্পর্কে জাল হাদিস নির্ণয়কারী মুহাদ্দীসীনদের অভিমত কী জেনে নেয় ৷

উক্ত বর্ণনাকে, আল্লামা ইবনুলজাওযী, ইমাম সূয়ুতী ও ইবনু আররাকসহ প্রমূখ মুহাদ্দীসীনরা সম্পূর্ণ জাল বলেছেন ৷
দেখুন:

ইবনুল জওযী, الموضوعات ২ / ৫৭০ পৃষ্ঠা

সয়ূতী, اللآلي المصنوعة في الاحاديث الموضوعة
২/১০৯
ইবনু আররাক, تنزيه الشريعة المرفوعة ২/১৪৯

ইবনে হাজার, لسان الميزان ( ২১১৪) নং তরজমা ৷

দেখুন, ইবুল জাওযী কি বলছে এই বর্ণনা সম্পর্কে

ﻫﺬا ﺣﺪﻳﺚ ﻻ ﻳﺸﻚ ﻋﺎﻗﻞ ﻓﻲ ﻭﺿﻌﻪ ﻭﻟﻘﺪ ﺃﺑﺪﻉ ﻣﻦ ﻭﺿﻌﻪ ﻭﻛﺸﻒ اﻟﻘﻨﺎﻉ ﻭﻟﻢ ﻳﺴﺘﺤﻴﻲ ﻭﺃﺗﻰ ﻓﻴﻪ اﻟﻤﺴﺘﺤﻴﻞ ﻭﻫﻮ ﻗﻮﻟﻪ: ﻭﺃﻭﻝ ﻳﻮﻡ ﺧﻠﻖ اﻟﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء، ﻭﻫﺬا ﺗﻐﻔﻴﻞ ﻣﻦ ﻭاﺿﻌﻪ ﻷﻧﻪ ﺇﻧﻤﺎ ﻳﺴﻤﻰ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء ﺇﺫا ﺳﺒﻘﻪ ﺗﺴﻌﺔ. ﻭﻗﺎﻝ ﻓﻴﻪ ﺧﻠﻖ اﻟﺴﻤﻮاﺕ ﻭاﻷﺭﺽ ﻭاﻟﺠﺒﺎﻝ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭاء. ﻭﻓﻲ اﻟﺤﺪﻳﺚ اﻟﺼﺤﻴﺢ: ” ﺃﻥ اﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺧﻠﻖ اﻟﺘﺮﺑﺔ ﻳﻮﻡ اﻟﺴﺒﺖ ﻭﺧﻠﻖ اﻟﺠﺒﺎﻝ ﻳﻮﻡ اﻷﺣﺪ “، ﻭﻓﻴﻪ اﻟﺘﺤﺮﻳﻒ ﻓﻲ ﻣﻘﺎﺩﻳﺮ اﻟﺜﻮاﺏ اﻟﺬﻱ ﻻ ﻳﻠﻴﻖ ﺑﻤﺤﺎﺳﻦ اﻟﺸﺮﻳﻌﺔ، ﻭﻛﻴﻒ ﻳﺤﺴﻦ ﺃﻥ ﻳﺼﻮﻡ اﻟﺮﺟﻞ ﻳﻮﻣﺎ ﻓﻴﻌﻄﻰ ﺛﻮاﺏ ﻣﻦ ﺣﺞ ﻭاﻋﺘﻤﺮ ﻭﻗﺘﻞ ﺷﻬﻴﺪا، ﻭﻫﺬا ﻣﺨﺎﻟﻒ ﻷﺻﻮﻝ اﻟﺸﺮﻉ، ﻭﻟﻮ ﻧﺎﻗﺸﻨﺎﻩ ﻋﻠﻰ ﺷﺊ ﺑﻌﺪ ﺷﺊ ﻟﻄﺎﻝ، ﻭﻣﺎ ﺃﻇﻨﻪ ﺇﻻ ﺩﺱ ﻓﻲ ﺃﺣﺎﺩﻳﺚ اﻟﺜﻘﺎﺓ، ﻭﻛﺎﻥ ﻣﻊ اﻟﺬﻱ ﺭﻭاﻩ ﻧﻮﻉ ﺗﻐﻔﻞ
তিনি বলছেন যে, এই বর্ণনা যে জাল এতে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়৷
এবং বর্ণনাটি জাল হওয়ার বিষয়ে আরো যথেষ্ট প্রমাণ দিয়েছেন, যা আরবী ইবারত থেকে বুঝা যায়৷

তিনি আরো বলেছেন,
ﻫﺬا ﺣﺪﻳﺚ ﻣﻮﺿﻮﻉ ﺑﻼ ﺷﻚ. ﻗﺎﻝ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺣﻨﺒﻞ: ﻛﺎﻥ ﺣﺒﻴﺐ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺣﺒﻴﺐ ﻳﻜﺬﺏ. ﻭﻗﺎﻝ اﺑﻦ ﻋﺪﻱ: ﻛﺎﻥ ﻳﻀﻊ اﻟﺤﺪﻳﺚ. ﻭﻓﻲ اﻟﺮﻭاﺓ ﻣﻦ ﻳﺪﺧﻞ ﺑﻴﻦ ﺣﺒﻴﺐ ﻭﺑﻴﻦ ﺇﺑﺮاﻫﻴﻢ ﺇﺑﻠﻪ. ﻭﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺣﺎﺗﻢ ﺃﺑﻮ ﺣﺒﺎﻥ: ﻫﺬا ﺣﺪﻳﺚ ﺑﺎﻃﻞ ﻻ ﺃﺻﻞ ﻟﻪ. ﻗﺎﻝ ﻭﻛﺎﻥ ﺣﺒﻴﺐ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ ﻣﺮﻭ ﻳﻀﻊ اﻟﺤﺪﻳﺚ ﻋﻠﻰ اﻟﺜﻘﺎﺓ ﻻ ﻳﺤﻞ ﻛﺘﺐ ﺣﺪﻳﺜﻪ ﺇﻻ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻴﻞ اﻟﻘﺪح
যে জাল হওয়ার ব্যপারে কোন সন্দেহ নেই৷

প্রিয় পাঠক, 》

【 অধম এই বর্ণাটি নিয়ে যথেষ্ট তাখরীজ ও দিরাসা تخريج و دراسة করেছি,
বর্ণনাটি মাওযু হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট কারন ও পেয়ছি ৷ 】

মূলত এই বর্ণনাতে একজন রাবী রয়েছে,
حبيب بن ابي الحبيب الخرططي
তিনি একজন কট্রর শিয়া ৷
তিনিই এটাকে জাল করেছেন ৷
আমরা ইতিপূর্বে তিনিকে ইবনুল জাওযীর বর্ণনাতে দেখেছি৷
তার সম্পর্কে ইমামদের মন্তব্য গুলো দেখুন ৷

حبيب بن أبي حبيب الخرططي المروزي [ويقال له: حبيب بن محمد].

عن إبراهيم الصائغ، وَغيره.
كان يضع الحديث قاله ابن حبان، وَغيره.

وقال الحاكم: روى عَن أبي حمزة وإبراهيم الصائغ أحاديث موضوعة

وقال نحوه النقاش.

وقال ابن عَدِي: كان يضع الحديث.
وقال أحمد بن حنبل: حبيب بن أبي حبيب كذاب.
كذا ذكره ابن الجوزي عنه عقب الحديث المذكور في الموضوعات
ثم قال ابن الجوزي: وفي الرواة من يدخل بين حبيب وإبراهيم الصائغ أباه.

>ইমাম ইবরাহীম সায়েগ ও ইবনে হিব্বান বলেছেন
তিনি হাদীস বানায় ৷

》ইমাম হাকেম বলছেন, তার অনেক জাল হাদীস রয়েছে ৷

《》 ইবনু আদী বলেছেন, তিনি হাদীস জাল করেন ৷

> আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন, كان يضع الحديث

》 আবু হাতেম ইবনে হিব্বান আরো বলেছেন, যে,
هذا باطل لا اصل له
এই বর্ণনা বাতিল যার কোন ভিত্ত নেই৷

দেখুন,
ইবনু হিব্বান , المجروحين গ্রন্থ ৷
ইবনু আদী, الكامل
ইবনু হাজার , لسان الميزان
ইবনুল জাওযী, الموضوعات
ইত্যাদী ৷
,
মোটকথা, বর্ণনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তহীন ও জাল ৷
আরববিশ্বের আলেমদের অভিমত ও এমন টি ৷

তাছাড়া বিষয়টি সারেতাজ উস্তাযে মুহতারাম
বাংলার হাদীসগবেষক,
【মুফতী আঃ মালেক সাহেব 】

” প্রচলিত জাল হাদীস”
১৪০ পৃষ্টায়
জাল বলে ব্যক্ত করেছেন৷
এতে আর কি সন্দেহ হতে পারে ৷

বিঃ দ্রঃ
তবে জুমার দিন কিয়ামত হবে এই ব্যাপারে অসংখ্য সহীহ হাদীস রয়েছে ৷

وحدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا المغيرة يعني الحزامي عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرةأن النبي صلى الله عليه وسلم قال خير يوم طلعت عليه الشمس يوم الجمعة فيه خلق آدم وفيه أدخل الجنة وفيه أخرج منها ولا تقوم الساعة إلا في يوم الجمعة
মুসলিম শরীফ, 854
তিরমীযী, 488
আবুদাউদ, 1430
মুসনাদে আহমদ, 27608

আল্লাহ আমাদের সকল ফিতনা থেকে বেচে থাকার তাওফিক দান করুন।

লেখকঃ মুফতি এহসান শায়েক্ব